ইসলামে পষ্ট করে বলা আছে, এমন দুর্যোগকালে ঘরে বসে নামাজ আদায় করা যায়।

0
71

ফেসবুকে গতকাল এক মাওলানা সাহেবের ওয়াজ শুনলাম। তিনি চিৎকার করে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছেন, করোনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, আরব আমিরাত এমনকি মক্কা-মদিনায় জামাতের নামাজ বন্ধ হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশে বন্ধ হতে দেওয়া হবে না। সাথে সাথে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ সেটি সমর্থণ জানিয়ে নারায়ে তকবির স্লোগান দিলেন।

একজন মাওলানা সাহেব এমন ওয়াজের আগে ধর্ম সম্পর্কে সামান্য পড়াশোনাটাও করে নিচ্ছেন না। অথচ ইসলামে পষ্ট করে বলা আছে, এমন দুর্যোগকালে ঘরে বসে নামাজ আদায় করা যায়। এমনকি বৃষ্টি-কাদার আবহাওয়া হলেও জামাতের বাধ্যবাধকতা নেই। ইসলাম কঠিন ধর্ম নয়। সবচে সরল ধর্ম এটি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ
“অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির কাছে উপস্থিত করা যাবে না”। (বুখারী হা/৫৩২৮ ও মুসলিম হা/৪১১৭)।

এরপরও কি আমরা করোনা আক্রান্ত রোগি হয়ে মসজিদে গিয়ে হাজির হবো? এটি ইসলাম সমর্থন করে না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:
إِذَا سَمِعْتُمْ بِالطَّاعُونِ بِأَرْضٍ فَلَا تَدْخُلُوهَا وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا مِنْهَا
“কোন এলাকায় তোমরা মহামারীর সংবাদ শ্রবণ করলে সেখানে প্রবেশ করবে না। আর কোন এলাকায় থাকা অবস্থায় যদি মহামারী শুরু হয়, তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না”। (বুখারী হা/৫২৮৭ ও মুসলিম হা/৪১১১)

মধ্যপ্রাচ্য মসজিদে নামাজ যে সাময়িক বন্ধ করেছে, তা না জেনেবুঝে করেনি। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে যারা কম জানে, তারাই এখন ভুল তথ্যের ওয়াজ করে ইউটিউব সেলিব্রেটি হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য শুধু মাওলানা সাহেবদের দোষ দিয়ে কি হবে। সংবাদ সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান নেই তারা যদি শীর্ষ পত্রপত্রিকার সম্পাদক হতে পারে, চরিত্রে যাদের ঠিকঠিকানা নেই তারা যদি মোটিভেশনাল স্পিকার হতে পারে, শুধু ওয়াজিদের একা দোষ দিয়ে আর কি হবে? অন্ধকার না কাটলে বা না-কাটালে যোগ্যদের মূল্যায়ণের যুগ ফিরে আসবে না।

ফেসবুক থেকে কপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here