ফেলানী হত্যার বিচার না হওয়া আমাদের গালে চড় দেওয়ার মতো-ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী

0
144

সীমান্তে বাংলাদেশি তরুণী ফেলানী হত্যার বিচার ৯ বছরেও না হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘৯ বছরেও ফেলানী হত্যার কোনো বিচার না হওয়া আমাদের গালে কষিয়ে চড় দেয়ার মত। ভারতীয়দের এই ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’ এসময় তিনি ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রোড ফেলানীর নামে নামকরণ করার দাবি জানিয়ে আরও বলেন, ভারতীয়দের মনে করে দিতে হবে যে, অন্যায়কে আমরা ভুলে যাইনি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও ন্যায় বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ফেলানী হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভারতীয় বাহিনী ১৫ বছর বয়সী ফেলানীকে নির্মমভাবে হত্যা করে ৫ দিন সীমান্তে ঝুলিয়ে রেখেছিল। এ ঘটনার বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি। ভারতের পতন অনিবার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা ছাড়া ভারতীয়দের এই অন্যায় অন্যায্য কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাবে না। ভারতের বিভক্তি আসন্ন। তাদের ধ্বংসলীলা দেখতে থাকুন। এসময় ভাততের প্রতি সরকারের ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির’ সমালোচনা করেন ডা. জাফরুল্লাহ। বলেন, আজ ভারতে যেসব ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশে তার কোনো প্রতিবাদ নাই। সরকারের এই নতজানু ব্যবস্থাপনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। যা দেশবাসীর জন্য ভয়ঙ্কর অমঙ্গল ডেকে আনবে। কুর্মিটোলা হাসপাতাল এলাকার আশপাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের ১০০ গজের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সারাদেশে এমন ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার অবসান করতে দেশে প্রয়োজন গণতন্ত্র।’ আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, আলহাজ খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সালাম, শাহজাহান মিয়া সম্রাট, সাইফুল ইসলাম শেকল, জসিম উদ্দিন কবির, রায়হানুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি (শুক্রবার) সকালে ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের ছোড়া গুলি বিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে কিশোরী ফেলানী। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা ফেলানীর নিথর দেহ কাঁটা তারের ওপর ঝুলে থাকার পর তার লাশ নিয়ে যায় বিএসএফ। এর প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ৮ (জানুয়ারি) শনিবার লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ। এর দুই বছর পর মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অব্যাহত চাপের মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করে ভারত সরকার। ওই আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। তবে একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামি অমিয় ঘোষকে খালাস দেন বিএসএফের বিশেষ আদালত। এরপর রায় প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় বিচারের দাবি জানান ফেলানীর বাবা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আবারও বিচারকাজ শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। কিন্তু ২০১৫ সালের ২ জুলাই আসামি অমিয় ঘোষকে পুনরায় খালাস দেন আদালত। এই রায়ের পর একই বছরের ১৪ জুলাই ভারতের ‘মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ-মাসুম’ ফেলানীর বাবার পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন করে। ওই বছর ৬ অক্টোবর রিট শুনানি শুরু হয়। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে কয়েক দফায় পিছিয়ে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য হলেও তা আজ পর্যন্ত হয়নি। এর ফলে থমকে গেছে ফেলানী খাতুন হত্যার বিচার প্রক্রিয়া। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম ঝুলে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে ফেলানীর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here