মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত বিজ‌য়ের মাস ডি‌সেম্বর

0
203

জাতির ইতিহাসে অনন্য গৌরবময় বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক রাজনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরণ হয় এই ডি‌সেম্ব‌রে। বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় এ মাসের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয়। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে ডি‌সেম্বর মা‌সে।

১৯৭১ সালের পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তার প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় যু‌দ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হওয়ায় বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্মরণীয়-বরণীয় মাস ডি‌সেম্বর। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেয়ার মাস ডি‌সেম্বর। ৭১’ এ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাঙা‌লির প্রত্যেকের হৃদয়ের মধ্যে গাথা এক অন্তহীন জগৎ। এই জগৎ হলো সততা, নৈতিকতা ও সর্বোপরি, দেশপ্রেমের জগৎ। এতে উদ্বুদ্ধ হয়েই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে নির্ভীক মুক্তিসেনারা দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বাঙালিদের মনের বল ও দেশপ্রেমের অদম্য তাগিদে বৈরী শক্তির ভিত কাঁপিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃতে – পঁচিশ, ছাব্বিশ, সাতাশ,আটাশ….মার্চ,এপ্রিল,মে,জুন….অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর- দীর্ঘ নয় মাস,পা‌কিস্তানী জানোয়ারের বুলেটের বিরুদ্ধে জেগে ওঠে মানুষের প্রতিরোধ,ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা, নারকীয় নারী-নির্যাতন,শরণার্থীদের অবর্ণনীয় কষ্ট, উদ্বাস্তু মনের তীব্র যাতনা পে‌রি‌য়ে যখন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সুনিশ্চিত তখনই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ডিসেম্বরের ১৪ তা‌রিখ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যার ক‌রার পরে বাঙা‌লির দৃপ্ত-বলিষ্ঠ অথচ প্রগাঢ় মায়াময় মুক্তিযুদ্ধ জেগে ওঠতে শুরু ক‌রে নতুন ভোরের সূর্যের মতো। সাড়ে সাতকোটি বাঙালি হয়ে ওঠে এক একটি নিটোল কবিতা।

দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ডিসেম্বরের ১৬ তা‌রিখ ওই দিন বিকেলে পাকিস্তানি বাহিনী রেসকোর্স ময়দানে মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। জাতি পায় স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগ ও আপোষহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। একজন মুক্তিযোদ্ধার চোখের গহীনে তাকালে দেখা যায় এক‌টি লাল সবু‌জে ঘেরা বিজ‌য়ের বাংলাদেশ, হাজার মুক্তিযোদ্ধার চোখের ফ্রেমে ৭১’ এর সেই একই দৃশ্যপট। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মিলিত বিজয় মানচিত্র-হৃদয়ের অভিধানে দোলনচাঁপার গন্ধ বুকে নিয়ে জাতীয় সংগীত পাঠ করলে দেখা যা‌য় বিজ‌য়ের মাস ডি‌সেম্বর। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ মা‌সে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা হাজার বছরের সংগ্রামের পরিণতি মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কাহিনী বাঙালি হৃদয়ে চিরজাগরূক হয়ে থাকবে এই গৌরবময় বিজয়ের মাস ডি‌সেম্বর। ‌

লেখক: মোহাম্মদ শ‌ফিউল ইসলাম শাফী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here