লকডাউন তালিকায় নাম থাকায় মাদারীপুরে মোবাইল নম্বর সংগ্রহকারী শিক্ষকের উপর হামলা গ্রামবাসীর

0
177

মোঃ মাজহারুল ইসলাম রুবেল,
মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার লুন্দি গ্রামের মসজিদের ইমাম সম্প্রতি করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ওই ইমামের সংস্পর্শে আসা এলাকার ৪৭ বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন। বুধবার (৬ মে) ট্যাগ অফিসারের নির্দেশে লকডাউনকৃত পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতে যান ২৫ নং লুন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শাহাজাদা পারভেজ ও ইশিবপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। লকডাউন তালিকায় নিজেদের নাম থাকায় এ সময় কতিপয় গ্রামবাসী তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধরক মারধর করে। একে মোবাইল নম্বর সংগ্রকারী শিক্ষক মারাত্মক আহত হন। খবর পেয়ে রাজৈর থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। করোনা আক্রান্ত ইমাম দীর্ঘ দিন ধরে লুন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জামে মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার অফিসিয়াল নির্দেশনায় ২৫ নং লুন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শাহাজাদা পারভেজ ও ইশিবপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম লকডাউন করা ৪৭ পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতে যান। এসময় লকডাউনের তালিকায় নাম থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে জালাল কাজি ও তার স্বজনরা সহকারি শিক্ষক শাহাজাদা পারভেজের উপর লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় বেধরক মারধর করে ফেলে রাখে। এ খবর পেয়ে রাজৈর থানার পুলিশ গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
আহত শিক্ষক শাহাজাদা পারভেজ বলেন, “উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মোবাইল নম্বর আনতে গেলে লকডাউনের তালিকায় নাম থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে জালাল কাজি ও তার স্ত্রী ডলি কাজীসহ ৬/৭জন স্বজন আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়।” তিনি কাঁদতে কাঁদতে আরো বলেন, “সরকারি নির্দেশে মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে আমরা মারধরের শিকার হয়েছি। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
রাজৈর থানার ওসি খোন্দকার শওকত জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here